मार्केट

बाज़ार डेटा लोड हो रहा है…

विलंबित भाव
लाइव टीवी
राज्य

আত্মবিশ্বাসই কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক স্বর্ণ এনে দিয়েছে: অস্মিতা দে

প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়ী অস্মিতা দে বলেছেন, আত্মবিশ্বাসই তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ফাইনালে কানাডার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে কোচের উৎসাহই তাঁকে জয় এনে দেয়।

আত্মবিশ্বাসই কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক স্বর্ণ এনে দিয়েছে: অস্মিতা দে
Graphic: Amrit Khabar NewsroomImage rights policy

মূল তথ্য

প্রথম ভারতীয় জুডোকা
কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণ জয়ী প্রথম ভারতীয় জুডোকা অস্মিতা দে
প্রতিপক্ষ
ফাইনালে কানাডার প্রতিপক্ষ, র্যাঙ্কিংয়ে অস্মিতার ঠিক নিচে
কোচ
যশপাল সোলাঙ্কি
জুডো শুরু
২০১৪ সালে ত্রিপুরায়
সংবর্ধনা
ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়ার বাসভবনে মঙ্গলবার

পটভূমি

ভারতের জুডো ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন ত্রিপুরার কন্যা অস্মিতা দে। সম্প্রতি গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জিতে প্রথম ভারতীয় জুডোকা হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লিতে ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়ার বাসভবনে জুডো পদকজয়ীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পাশে পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি শোনান অস্মিতা।

২০১৪ সালে ত্রিপুরায় জুডো শুরু করেন অস্মিতা। একটি ক্রীড়া বিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে তাঁর যাত্রা শুরু। মামার পরামর্শে ফিটনেস পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এরপর কোচের সঙ্গে আগরতলায় গিয়ে ট্রায়ালে ভালো ফল করেন। সেখান থেকেই জুডোর সঙ্গে পরিচয়, শুরুতে জেলা, তারপর রাজ্য পর্যায়ে শিরোপা জিতে ক্রমশ এই খেলায় গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর।

বর্তমান পরিস্থিতি

গ্লাসগো যাওয়ার বিমানে ওঠার আগেই তাঁর মনে ছিল একটাই লক্ষ্য—স্বর্ণপদক জিতেই ভারতে ফিরতে হবে। অস্মিতা বলেন, “গ্লাসগোর ফ্লাইটে ওঠার আগেও আমার মনে একটাই কথা ছিল—আমাকে স্বর্ণপদক জিততেই হবে। আমি নিজেকে বারবার বলতাম, স্বর্ণপদক নিয়েই ভারতে ফিরব।” ফাইনালে কানাডার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ে এক মুহূর্তের জন্য স্বর্ণ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু কোচ যশপাল সোলাঙ্কির সময়োপযোগী উৎসাহ তাঁকে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনে।

ফাইনালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে অস্মিতা বলেন, “প্রতিপক্ষ ছিল কানাডার, র্যাঙ্কিংয়ে আমার ঠিক নিচে, তাই আমরা প্রায় সমান ছিলাম। সে যখন আমার বিরুদ্ধে পয়েন্ট পায়, তখন কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভেবেছিলাম হয়তো হারতে পারি। কিন্তু কোচ যশপাল সোলাঙ্কি স্যার বারবার বলছিলেন, স্বর্ণ আমাদেরই, জিততেই হবে। এতে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ম্যাচে সমতা আনি, তারপর গোল্ডেন স্কোরে পয়েন্ট পেয়ে জিতে যাই।”

প্রভাব

অস্মিতার এই সাফল্য ভারতীয় জুডো জগতে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন অনেকে। দেশের জুডো খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি মাইলফলক, যা ভবিষ্যতে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে এই খেলায় আগ্রহী করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ত্রিপুরার মতো রাজ্য থেকে আসা একজন খেলোয়াড়ের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যে কেউ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে পারেন।

অস্মিতার মতে, শারীরিক ক্ষমতার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি বলেন, “আমার ওজন বিভাগে ভারতের অনেক খেলোয়াড় প্রায় একই রকম প্রশিক্ষণ নেয়। আসল পার্থক্য মানসিকতায়। কে মানসিকভাবে শক্তিশালী, চাপ সামলাতে পারে এবং আত্মবিশ্বাসী—সেটাই মূল কথা। শারীরিকভাবে অন্যরাও আমার মতো শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু শক্ত মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য তৈরি করে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

Scenario analysis: The possibilities below are not certain predictions.

এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে অস্মিতা বলেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে তিনি ভয় পান না। তাঁর পরিকল্পনা হলো আরও কঠোর পরিশ্রম করা, কারণ এশিয়ান গেমসের আগে বেশি সময় নেই। প্রতিটি প্রতিপক্ষের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। কমনওয়েলথ গেমস শেষ হওয়ার পরও তিনি সময় পেলেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদি অস্মিতা এশিয়ান গেমসে একই রকম আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনি পদক জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেন। তবে জাপান, চীনের মতো দেশগুলোর জুডো ঐতিহ্য অনেক শক্তিশালী, তাই সেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। যদি তিনি মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে পারেন এবং কোচের নির্দেশনা মেনে চলেন, তাহলে এশিয়ান গেমসেও ভালো ফল করতে পারেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার মাত্রা বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

Source: dailypioneer.com

इस समाचार को साझा करें